Skip to content

বাংলাদেশের শহুরে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি

বাংলাদেশের শহুরে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি: একটি গভীর দৃষ্টিপাত

বাংলাদেশের শহরগুলোতে দ্রুত নগরায়ণের ফলে একটি বিশাল অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে উঠেছে, যাকে আমরা “অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি” বলে থাকি। এটি এমন একটি খাত, যেখানে কাজের নিয়ম-কানুন বা সামাজিক সুরক্ষা প্রায়ই অনুপস্থিত থাকে, তবুও এটি লাখো মানুষের জীবিকার প্রধান ভিত্তি। আজ, ৩০ মার্চ ২০২৫-এ, আমরা এই বিষয়টির গুরুত্ব এবং চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করব।

অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি কী?

অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি বলতে সেই সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বোঝায়, যেগুলো আইনি বা সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে পরিচালিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে রাস্তার ফেরিওয়ালা, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র দোকানদার, এবং মোবাইল সবজি বিক্রেতার মতো পেশা। বাংলাদেশে এই খাতটি জিডিপি’র প্রায় ৪৩% এবং মোট কর্মসংস্থানের ৮৮% পর্যন্ত অবদান রাখে বলে “ইনসাইটস ইনটু দ্য ইনফরমাল সেক্টর ইন বাংলাদেশ” (পলিসি ইনসাইটস) গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

শহরে এর বিস্তার

ঢাকার মতো মহানগরীতে গ্রাম থেকে শহরে মানুষের স্থানান্তর বৃদ্ধির সাথে সাথে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির প্রসার ঘটেছে। যেখানে আনুষ্ঠানিক খাতে চাকরির সুযোগ সীমিত, সেখানে এই খাতই বেকারদের জন্য একটি আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। উদাহরণস্বরূপ, মো. সানাউল হক মন্ডলের গবেষণা “Urban Informal Economy in Bangladesh: A Case Study on Mobile Vegetable Vendor in Dhaka City” (২০১৭) দেখিয়েছে যে, রিকশা ভ্যানে সবজি বিক্রেতারা শুধু নিজেদের জীবিকা নির্বাহই করেন না, বরং তাদের সন্তানদের শিক্ষা, খাদ্যাভ্যাসের উন্নতি এবং সঞ্চয়ের মাধ্যমে পরিবারের সামাজিক অবস্থান উন্নত করেন।

গুরুত্ব এবং অবদান

এই খাতটি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু কর্মসংস্থানই সৃষ্টি করে না, বরং দারিদ্র্য হ্রাস, অপরাধের হার কমানো এবং গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। “The Informal Sector and Informal Employment in Bangladesh” (এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, ২০১২) রিপোর্ট অনুসারে, ২০১০ সালে এই খাতে প্রায় ৮৯% শ্রমিক নিয়োজিত ছিলেন, যাদের বেশিরভাগই নারী এবং গ্রামীণ অঞ্চল থেকে আগত।

চ্যালেঞ্জসমূহ

তবে, এই খাতের শ্রমিকদের জীবনে চ্যালেঞ্জের অভাব নেই। আয়ের অনিয়মিত প্রকৃতি, সামাজিক সুরক্ষার অভাব, এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হয়রানি তাদের জীবনকে কঠিন করে তোলে। উদাহরণস্বরূপ, মন্ডলের গবেষণায় দেখা গেছে যে, সবজি বিক্রেতারা প্রায়ই ট্রাফিক পুলিশের জরিমানা বা উৎকোচের শিকার হন। এছাড়া, ব্যাংক ঋণ বা আর্থিক সুবিধার অভাব তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে বাধা সৃষ্টি করে।

সমাধানের পথ

এই খাতকে শক্তিশালী করতে সরকার এবং এনজিওদের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হলে এই শ্রমিকরা আরও উৎপাদনশীল হতে পারে। “Informal Economy and Economic Inclusion” (দ্য ডেইলি স্টার, ২০২০) নিবন্ধে বলা হয়েছে, অনানুষ্ঠানিক খাতের উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা গেলে তারা আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হতে পারে।

উপসংহার

বাংলাদেশের শহুরে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি কেবল একটি অর্থনৈতিক কাঠামো নয়, এটি লাখো মানুষের স্বপ্ন ও সংগ্রামের প্রতীক। এটি সঠিক নীতি ও সমর্থন পেলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে। আমাদের প্রয়োজন এই খাতের শ্রমিকদের কণ্ঠস্বর শোনা এবং তাদের জন্য একটি ন্যায্য ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।


এই ব্লগ পোস্টটি বাংলাদেশের শহুরে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির বর্তমান চিত্র তুলে ধরেছে এবং এর গুরুত্ব ও সম্ভাবনার উপর আলোকপাত করেছে। আপনার মতামত বা অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে মন্তব্য করতে ভুলবেন না!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *